--কাজি আমাকে কবুল বলতে বললো।আমি কবুল বললেই ফাহমিদার সাথে আমার বিয়ে হয়ে যাবে।তখনি ফোনের টোনটা বেজে উঠলো।পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি একটা মেইল এসেছে।মেইল টা চেক করতেই মাথা ঘুরে গেলো আমার!সাথে সাথে ধাপাসসস করে নিচে বসে পাড়লাম!

সাজিয়া আমায় ছবি মেইল করেছে।সে একা নয়,তার সাথে আরিফ ও আছে।যে কিনা সাজিয়াকে বহু আগ থেকেই ভালোবাসে।কিন্তু সাজিয়া তাকে পাত্তা দিতো না।কারন সাজিয়া আমায় ভালোবাসতো।এবং আমাকেই বিয়ে করে নেয়।কিন্তু হটাৎ আজ আরিফের সাথে ওর পাশাপাশি ছবি দেখে কলিজাটা যেনো ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলো আমার!নাহ,সাজিয়াকে যেনো আরিফের পাশে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না আমি!তখনি সাজিয়ার নাম্বার থেকে একটা মেসেজ আসে।
--এই যে মিস্টার আকাশ,আপনি তো আমায় মিথ্যে অপবাদ দিয়ে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন।কিন্তু দেখেন,আরিফ আমার হাত ছাড়েনি।সে আমায় সত্যি কারেই ভালোবাসে।আমি ডিভোর্সি জানার পরেও সে আমায় বিয়ে করবে বলেছে।আমার পিছনের সমস্ত অতীত সে আমায় ভুলতে সাহায্য করবে বলেছে।
আর আমিও খুব খুশী,যে মানুষটা আমায় সত্যি কারের ভালোবাসতো,তাকেই পরিশেষে আমি পেলাম।দোয়া করবেন আমাদের জন্য।কাল আমি আর আরিফ বিয়ে করতে যাচ্ছি।আপনি আর ফাহমিদা ম্যাম আমাদের বিয়েতে আসিয়েন।এরপর আর কিছু লেখা নেই।
--সাজিয়ার ম্যাসেজ পড়ে মনে হচ্ছে,কলিজা গোলে মুখ দিয়ে বের হয়ে যাবে।সাজিয়াকে অন্যের পাশে দেখে,কোনো ভাবেই নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না আমি।নাহ,সাজিয়া শুধু আমার।সে আর কারোর হতে পারে না।
--স্যার কি হলো?আপনি আমায় বিয়ে করবেন না?
আর ফোনে কি দেখে আপনি এমন ঘাবড়ে গিয়েছেন?
--ফাহমিদা,আমায় ক্ষমা করো।আমি তোমায় বিয়ে করতে পরবো না।সাজিয়াই আমার সব।ওকে ছাড়া অন্য কোনো নারীকে আমি গ্রহণ করতে পারবো না।
চললাম আমি...
বিয়ে না করেই সেখান থেকে চলে আসলাম আমি।
সাজিয়া আর আরিফের পিক দু'টো বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।সাজিয়ার নাম্বারে ফোন করলাম,কিন্তু নাম্বার বন্ধ।কোনো ভাবেই সাজিয়ার সাথে কন্টাক্ট করতে পারলাম না।সাজিয়া কি সত্যিই আমায় ছেড়ে আরিফকে বিয়ে করে ফেলবে!নাহ,এমনটা হতে পারে না।এমনটা হলে যে আমি মরে যাবো।সাজিয়া হয়তো অন্য পুরুষের স্পর্শে গিয়েছে।কিন্তু তার পরেও সাজিয়াকে আমার চাই।অন্তত চোখের সামনে তো তাকে পাবো।দরকার হয় সাজিয়া সেই বস্ত্রহীন লোকটাকে বাসায় নিয়ে আসুক,তাও তো সাজিয়ার উপরে আমার অধিকার থাকবে।
দুনিয়াদারী যেনো ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে।টেনশনে মাথায় কিছু কাজ করছে না।চোখের পানি যেনো গঙ্গার জ্বলে পরিনত হয়েছে।এত চাপ আর নিতে পারছি না আমি।ফ্রিজ থেকে গিয়ে মদের বোতল বের করে আনলাম।
তারপর পুরো বোতল গটগট করে একাই শেষ করে ফেললাম।যেখানে আমি এক বোতল শেষ করতে তিন দিন লাগে।নেশা করে মাতালের মতন সোফার মধ্যে পড়ে আছি।চোখে আর কিছু দেখতে পাচ্ছি না।সব কিছুই ঘোলাটে হয়ে আসছে আমার।হটাৎ এই দেখি আন্ডারওয়্যার পড়া সেই লোকটা আমার সামনের সোফা টায় বসে আছে!এই তুই কে?
আর তুই আমার বউয়ের সাথে কি করেছিস?
--তোর বউয়ের সাথে আমি কিছুই করিনি।যা করেছিস তুই নিজেই।মদ খেয়ে বাসায় এসে উল্টা-পাল্টা দেখলে এতে কার দোষ?
--মানে কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
--হা আমি কেউ না।আর আমি কোনো মানুষ না।আমি শুধু যাস্ট তোর মনের একটা ভ্রম।তোর মনের কল্পনায় শুধু আমি ধোঁয়াশা মানবের ঠাঁই রয়েছে।তাছাড়া বাস্তবে আমার কোনো রূপ নেই।না হয় তো তুই ছাড়া বাকি মানুষরাও আমায় দেখতো।
--কিহহহ,তুই সত্যি বলছিস?
--কেনো তোর বিশ্বাস হচ্ছে না?
--না,আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
--ওকেহ চল আমার সাথে কিচেনে।তারপর তোর মাতলামি বের করছি।পরেই তোর বিশ্বাস হবে।
--সোফা থেকে উঠে আন্ডারওয়্যার পড়া লোকটার পিছন পিছন কিচেনে গেলাম।
--নে ধর লেবু কাট..
--লোকটার কথা মতন লেবু কাটলাম।
এবার কি করবো আমি?
--ওয়াশরুমে চল..
--লোকটার কথা মতন ওয়াশরুমে গেলাম।
--এবার মুখে হাত দিয়ে ইচ্ছা মতন বমি কর।তনে তার আগে একটা কথা বলে দেই।বমি করে ফ্রেশ হয়ে গিয়ে লেবুটা খাবি।আমি কিন্তু তোর সাথেই থাকবো।কিন্তু তারপর আমার অস্তিত্ব খেয়াল করবি।
--লোকটার কথা মতন মুখে হাত দিয়ে ইচ্ছে মতন বমি করলাম।পেটে যা ছিলো,সব বমি করে বের করেছি।পরে তাড়াতাড়ি গিয়ে লেবুটা মুখে দিলাম।নেশাটা কেটে গেছে মোটামুটি।কিন্তু লোকটাকে আর দেখতে পেলাম না।সে তো আমি বমি করে আসার পরেও কিচেনে আমার সাথে এসেছিলো!কিন্তু হটাৎ এই উধাও হয়ে গেলো কোথায়!সারা বাড়ি খোঁজ করে লোকটাকে আর পেলাম না।দরজা জানালা সব ভিতর থেকে বন্ধ।তখনি লোকটার বলা কথা মনে পড়লো।
সে বলেছিলো সব কিছুই আমার ভ্রম।তাছাড়া কিছুই না।সেই মানবের কোনো বাস্তবতা নেই।তার মানি এতদিন আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম।যার সমস্ত কিছুই ছিলো আমার কল্পনা।আন্ডারওয়্যার পড়া অর্ধনগ্ন লোক,যাকে আমি চোখের সামনে অনেকবার দেখেছি,তার মানে সবটাই আমার চোখের ভুল!সবটাই ছিলো একটা মিথ্যে কল্পনা!তখনি সাজিয়ার কথা মনে পড়ে।মেয়েটাকে তাহলে ভুল কারনে আমি এতগুলো কথা শুনিয়েছি।ভুল কারনে হাজারটা কষ্ট দিয়েছি।এটা ভাবতেই কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠলো।চিৎকার দিয়ে কান্না করে উঠলাম।নাহ,আমার কলিজাটার সাথে আমি অন্যায় করেছি।ওর থেকে যেভাবেই হোক মাফ চাইতে হবে আমার।সেভাবেই হোক,আরিফ আর সাজিয়ার বিয়েটা আটকাতে হবে আমার।কিন্তু কি ভাবে আটকাবো আমি ওদের বিয়ে।সাজিয়া কোথায় আছে,সেটাই তো আমি জানিনা।নাহ আমি হাল ছাড়বো না।পাতাল থেকে হলেও সাজিয়াকে আমি খুঁজে বের করবো।কিন্তু এখন তো সম্ভব না।কারন রাত বাজে চার টা।সকাল হোক আগে।অপেক্ষা করছি কখন সকাল হবে।
অপেক্ষার প্রহর কেটে সকাল হলো।
কাপড় চোপড় পাল্টে নিলাম।এখনি সাজিয়ার খোঁজে বের হবো।ঠিক তখনি ফাহমিদার নাম্বার থেকে একটা মেসেজ আসে।
--স্যার,আমি সবটাই জেনে গেছি।আমাকে আপনার বিয়ে করতে হবে না।আর ম্যাডামের সাথেও আমার কথা হয়েছে।এই যে নিন ম্যাডামের ঠিকানা।আপনি সেখানে গেলেই ম্যামকে পাবেন।
--ফাহমিদার কথা অনুযায়ী ঠিকানা বরাবর চলে গেলাম।সেখানে গিয়ে দেখি একটা ঘর।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিংবেল বাজালাম।একটা সুন্দরী মেয়ে এসে দরজা খুলে দিলো।
--আপনিই রাজ ভাই?
--হা,কিন্তু আপনি কে?
--আমি কে সেটা পরে জানতে পারবেন।আগে ভিতরে আসুন।
--ঘরের ভিতরে যেতেই দেখি সাজিয়া দাঁড়িয়ে আছে।
সাজিয়াকে দেখে দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম।কিন্তু সে আমায় ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলো...
--এই আপনার সাহস তো কম না,আপনি আমায় জড়িয়ে ধরেন!
--সাজিয়া প্লিজ আমায় মাফ করে দাও।
আমার ভুল হয়ে গেছে।
--কিসের মাফ হা?কোনে মাফ টাফ নাই।যান ফাহমিদার কাছে যান।আমার কাছে কেনো মাফ চাচ্ছেন?
--সাজিয়া বিশ্বাস করো,আমি এতদিন একটা ভ্রমের মধ্যে ছিলাম।কিন্তু কোনো এক কারনে আমি গতকাল রাতে শিউর হই,যে আন্ডারওয়্যার পড়া অর্ধবস্ত্র অবস্থার কোনো লোক নেই।সবটাই আমার কল্পনা।
--বাহ ভালোই তো।তাহলে বিনা কারনে এতদিন আমাকে কষ্ট দিয়েছেন আপনি?
--সাজিয়া তুমি আমায় যা শাস্তি দিবে দাও।আমার ভুল হয়ে গেছে।কিন্তু প্লিজ তুমি আরিফকে বিয়ে করিও না।
--নাহ আমি তো ওকেই বিয়ে করবো।
--আমি মাফ চেয়েছি তো সাজিয়া!
--হুহ আসছে,মাফ চাইলেই কি সব সমাধান হয়ে যায় নাকি?আমায় কত কষ্ট দিয়েছেন,মনে নেই আপনার?
--আমি জানি না,তোমার কাছে কি ভাবে মাফ চাইবো।কি ভাবে নিজের পাপের বোঝা কমাবো।কিন্তু এটা বলতে পারি,যে আমি তোমায় ভালোবাসা দিয়ে সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দিব।বলেই টান দিয়ে সাজিয়াকে নিজের কাছে নিয়ে আসলাম।আর পাগলের মতন চুমু খেতে লাগলাম।পাশেই যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে ছিলো,সেই দিকে আমার কোনো খেয়াল এই নেই।মেয়েটা দৌড়ে পালিয়ে গেলো।অনেক্ক্ষণ পর সাজিয়াকে ছেড়ে দিলাম।ওকে আদর করেছি আর দুকড়ে দুকড়ে কান্না করেছি।
--এই হয়েছে থাক আর কান্না করতে হবে না।আর এবারের মতন মাফ করে দিলাম।কিন্তু পরেরবার থেকে যেনো এমন আর না হয়।
--আর হবে না।কিন্তু আরিফ?
তখনি আরিফ রুম থেকে বের হয়ে আসে।সাথে সেই মেয়েটা
--আরেহ আকাশ ভাই,তোমার কি মাথা টাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে নাকি হা?যে তুমি সাজিয়াকে উল্টা-পাল্টা সন্দেহ করেছিলে!
--আরিফ,আমি একটা ভ্রমের মধ্যে ছিলাম।তাই ওকে না যেনে কষ্ট দিয়েছি।কিন্তু এখন সবটাই ক্লিয়ার।
--যাক,ক্লিয়ার হলেই হয়েছে।
সামনের থেকে একটু খেয়াল রাখবেন।আর এই যে আমার বউ সাফা।ওর সাথে পরিচয় হয়ে নিন।
--তোমার বউ মানে?
তুমি না আজ সাজিয়াকে বিয়ে করতে?
--আরেহ,ওসব কিছু তো আমাদের প্লান ছিলো।সাফার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে আজ ছয়মাস হতে চললো।
সেই আমার স্ত্রী,তাকে রেখে সাজিয়াকে কোন দুঃখে বিয়ে করতে যাবো আমি?
--কি সব বলছো?আর কিসের প্লান?
--সাজিয়া একদিন কান্না করতে করতে আমায় ফোন দেয়।পরে সবটা আমাকে বলে।আমি তাকে আমার বাসায় চলে আসতে বলি।সে বলে তুমি নাকি তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে চাও।কিন্তু সে তোমায় ছাড়তে চায় না।পরে আমরা মিলে একটা প্লান করি,যে তোমাকে ঐ মেয়ের থেকে দূরে সরাবো।পরে আমি আর সাজিয়া মিলে ছবি তুলে তোমায় সেগুলো পাঠাই।
--কিহহ,তোমরা এসব প্লান করেছো?আর আমি কাঁদতে কাঁদতে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি!
--হুহ,তিনি একটাই কেঁদেছেন।আমি মনে হয় কাঁদিনি।
খোদার কাছে হাত তুলে কান্না করেছি,যাতে ফাহমিদার সাথে তোমার বিয়েটা না হয়।আমার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছে।আমি ফাহমিদাকে ফোন দিয়ে সবটাই জেনেছি,যে তোমাদের বিয়ে হয়নি।আর তোমাকে পিক পাঠানোর পর তুমি কেমন করেছিলে!
--তুমি তো দেখি অনেক চালাক হয়ে গেছো সাজিয়া।
--চালাক না হলে যে তোমায় নিজের করে ধরে রাখতে পারতাম না।সাথে সাথেই ডিভোর্স পেপারে সাইন করে চলে আসতাম।চালাক হয়েছি বলেই শেষ অব্ধি তোমায় নিজের করে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি।আর তাতে সফল ও হয়েছি।
--হুহ,আমার চালাক মহারানী,চলেন এবার বাড়ি চলেন।
--হা,চলো...
--আরিফ তোমাকে ধন্যবাদ।
--ধন্যবাদ দেওয়ার কিছুই নেই।আমার কর্তব্য আমি পালন করেছি।তোমার টা তুমি করো।আর একটা কথা মাথায় রেখো ভাই।সাজিয়া মা হতে চলেছে।
--কিহহহহহ,সাজিয়া মা হতে চলেছে!
--হা...
--খুশিতে সাজিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে কয়েকটা চুমু বসিয়ে দিলাম গালে।পরে ওকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম।কলিজা,আজকের পর তোমায় আর কোনোদিন কষ্ট দিব না।খুব খুব খুব ভালোবাসবো তোমায়।
--এরপর কষ্ট দিলে সোজা মরে যাবো আমি!
--না সাজিয়া প্লিজ এভাবে বলো না।
তোমায় যে কতটা ভালোবাসি,সেটা দ্বিতীয় বারের মতন উপলব্ধি করেছি গতকাল।আবার কষ্ট দেওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।
--আমিও তোমায় খুব ভালোবাসি।সারাজীবন ভালোবাসা দিয়ে এভাবে আমায় আগলে রেখো।
--হু,রাখবো।
মরনের আগ পর্যন্ত এভাবে আগলে রাখবো তোমায়।
পরপারেও যেনো তোমায় পাই,সেভাবেই সংসারটা শুরু করবো এবার থেকে দুজনে মিলে।
আসুক যত বাঁধা আসবে,
হবনা কভু পর।
লড়াই করবো দু'জন মিলে,
বাঁধবো সুখের ঘর।
সমাপ্তি...!